Byun Shi-Ji/যে চিত্রকর বাতাস গিলে ফেলেছিলেন/বাতাস
Byun Shi-Ji · 邊時志
যে চিত্রকর বাতাস গিলে ফেলেছিলেন
বাতাস
1 / 3 · বাংলা
লেখা: Byun Joung Hoon
I
আমি প্রথমে এসেছিলাম
আমি আগে এসেছি।
মানুষের পায়ের ছাপ এই মাটিতে পড়ার আগেই আমি কালো পাথরের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিলাম।
শোনা যায়, তারও বহু আগে এক নারী বুকে মাটি নিয়ে সমুদ্র পেরিয়ে এসেছিলেন। তিনি বসে নিশ্বাস ফেলতেই পাহাড় উঠেছিল। তিনি মিলিয়ে যাওয়ার পরে শুধু আমি রয়ে গেলাম।
তখন থেকে আমি এই মাটির ওপর দিয়ে বয়ে চলেছি। ছোট ঘোড়াগুলোর জন্মের আগেই আমি তাদের কেশরের বিন্যাস জানতাম। কাক ডাকার আগেই আমি তার ডাকের ছায়া জানতাম। শুকনো ঘাস তার সম্পূর্ণ বেঁচে থাকা সময়ের রং ধরার আগেই আমি তার পাশে ছিলাম।
তারপর একদিন এক পুরুষ ফিরে এলেন। লাঠিতে ভর দিয়ে, কাঁধ নুইয়ে, সমুদ্রের দিকে পিঠ করে।
আমি তাঁকে স্বাগত জানাইনি। শুধু তাঁর পোশাকের প্রান্ত টেনেছিলাম, আর তাঁর তুলির ডগা কাঁপিয়েছিলাম।
দূর থেকে যে আসে, সে সঙ্গে সঙ্গেই এখানে বাস করতে পারে না। যে নিজেকে নত করে, সে-ই শেষ পর্যন্ত আমাকে আঁকতে পারে।
তাঁকে পরীক্ষা করতেই আজও আমি বয়ে চলেছি।
II
আমি তাকে চিনতে পারিনি
আমি তাকে চিনতে পারিনি।
অসংখ্য নৌকা এই দ্বীপে ভিড়েছে, অসংখ্য মানুষ চলে গেছে। টাট্টুর কেশর আর কাকের ডাক আগে থেকেই চিনতাম। কিন্তু মানুষের নাম মুখস্থ রাখি না। যে আসে সে আসে, যে যায় সে যায়। এইটুকুই জানতাম।
কিন্তু লোকটি অন্যরকম ছিল। জিনিসপত্র খুলেই সমুদ্রের সামনে দাঁড়াল, অনেকক্ষণ নড়ল না।
আমি তাকে স্বাগত জানাইনি। তার দুই চোখে সামুদ্রিক লবণ ছুড়েছি। বালিভরা হাওয়া মুখের ভেতর পর্যন্ত ঠেলে দিয়েছি। কোটের কিনারা এমন টেনেছি যেন ছিঁড়ে ফেলব। সঙ্গে আনা টুপি গড়িয়ে সমুদ্রের দিকে তাড়িয়ে দিয়েছি।
মূল ভূখণ্ড থেকে আসা মানুষকে এভাবেই স্বাগত জানাতাম। পাথরের দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে ফিরে আসা হাওয়া হয়ে, চালার কিনারা চেরা শিস হয়ে।
সে টলল। ভেজা পাথরে এক হাঁটু বেঁকে গেল। পাথরের ফাঁকে লাঠি আটকাল। পেছন থেকে কাঁধে ধাক্কা দিলাম। সে দুলল, কিন্তু মুখ ফেরাল না।
বলত, টোকিও থেকে আসা আঁকিয়ে। সিউলেও নাম ছিল। আমি এসব জানি না। শুধু দেখেছি, শুকনো ঘাসের পাতার ওপর অনেকক্ষণ বসে আছে। সূর্য ডুবল, আবার উঠল। সে তখনো সেখানে।
তখনই বুঝলাম, এই লোক যাবে না। আমার হাতে আঁকা হওয়ার মানুষ নয়, আমাকে আঁকবে যে, সেই মানুষ।
প্রথমবার এক মানুষের সামনে নিঃশ্বাস আটকে রাখলাম।
III
আমি তার তুলি কাঁপিয়েছিলাম
আমি তার তুলি কাঁপিয়েছিলাম।
রাতে দরজার ফাঁক দিয়ে ঢুকে শিস দিতাম। জানালার কাগজ ছিঁড়েছি, লেপ উড়িয়েছি, জলের বাটি উল্টেছি। সে মুখ ঢেকে পাশ ফিরেছে, কিন্তু জিনিসপত্র গোটায়নি। তাই দিনেও তাকে ছাড়িনি।
যেদিন প্রথম ইজেল খুলল, ফেলে দিলাম। বালি দিয়ে ক্যানভাস নোংরা করলাম, রঙের পাত্র উল্টে দিলাম। অপেক্ষা করলাম, সে রেগে উঠবে। মূল ভূখণ্ডের চিত্রকরদের মতো পিঠ ফিরিয়ে চলে যাবে।
কিন্তু সে আবার ইজেল দাঁড় করাল। হাঁটু গেড়ে বালি ঝেড়ে আবার তুলি ধরল। আরও জোরে বইলাম। কবজি কাঁপল, রেখা এলোমেলো হলো।
তখন অদ্ভুত ঘটনা ঘটল।
কাঁপা হাত থামাতে চাইল না। বরং আমার দোলায় নিজেকে ছেড়ে দিল। কালো রেখা আরও রুক্ষ হলো, আরও বাঁকল, আরও জীবন্ত হলো।
সেই মুহূর্তে বুঝলাম, বাঁকা হওয়া দুর্বলতা নয়, সয়ে যাওয়ার আকৃতি।
বাধা দিতে চেয়েছিলাম, অথচ তাকে আঁকছিলাম। যেখানে কাঁপিয়েছি, তার ছবি বেড়েছে। যেখানে মুছতে চেয়েছি, অবয়ব গভীর হয়েছে।
সেদিন প্রথম বুঝলাম, কেউ কেউ হাওয়াকে জেতে না, নিজেই হাওয়া হয়ে যায়।
আমার একটু ভয় হয়েছিল।
IV
আমি টাট্টু পাঠিয়েছিলাম
আমি টাট্টু পাঠিয়েছিলাম।
এক সকালে কী আঁকবে ঠিক করতে না পেরে সে দিশেহারা ছিল। মাঠের একটি টাট্টুকে তার সামনে ঠেলে দিলাম। এবার কেড়ে নেওয়ার জন্য নয়। ছোট, রোগা প্রাণী, কেশর এলোমেলো। মূল ভূখণ্ডের ঘোড়ার মতো বড় বা চকচকে নয়।
দেখতে চেয়েছিলাম, এই জীর্ণ প্রাণীকে সে কীভাবে গ্রহণ করে।
অনেকক্ষণ দেখল। টাট্টুর বাঁকা পিঠ, ঝুলে-পড়া ঘাড়, হাওয়ায় ঘষা কেশর। হাসেনি, করুণাও করেনি। শুধু নিজের কাঁধ ছুঁয়েছে।
তখনই বুঝলাম, প্রাণীটির মধ্যে নিজেকে দেখছিল। মূল ভূখণ্ড থেকে সরিয়ে দেওয়া মানুষ। বড় মঞ্চ থেকে ছোট দ্বীপে ফেরা মানুষ। কোমর বাঁকা, কেশর এলোমেলো।
দ্বীপের পাথরের দেয়ালও এমন। উচ্চতা নিয়ে গর্ব করে না। পরস্পরের গায়ে ভর দিয়ে নিচু হয়ে দাঁড়ায়। নিচু হওয়াই দীর্ঘকাল সয়ে যাওয়ার উপায়। টাট্টুও, সেও, আগে থেকেই জানত।
তুলি চলতে শুরু করল। কালো রেখায় টাট্টুর অবয়ব ক্যানভাসে ফুটল। আমি আর কাঁপালাম না।
সেদিন এক প্রাণী আর এক মানুষ একই স্থানীয় পরিবেশে ভাই হলো। আমি তা দেখেছি।
প্রথমবার তার জন্য চুপ হলাম।
V
আমি কাককে জাগিয়েছিলাম
আমি কাককে জাগিয়েছিলাম।
সে তখন টাট্টু আঁকায় অভ্যস্ত হচ্ছে। বুড়ো হ্যাকবেরি গাছের ডালে ঘুমন্ত কাককে কাঁপিয়ে জাগালাম। কালো, রোগা পাখি। এক চোখ ঘোলা, পা একটিমাত্র। অন্য কাকেরা দল বেঁধে উড়ে গেলে একা পড়ে ছিল। তাকে তার আঁকার ঘরের জানালায় পাঠালাম।
কাক ডাকল না। শুধু অনেকক্ষণ তার দিকে চেয়ে রইল। সেও তুলি নামিয়ে পাখির দিকে তাকাল। দুজনে একে অন্যের নীরবতা সইছিল, আমি মাঝ দিয়ে যেতে যেতে শুনলাম।
কাক কী বলেছিল, সে হয়তো জানতে পারেনি। কিন্তু সেই রাতে ছবিতে একটি কালো পাখি এলো। সমুদ্রের ওপর নিচু হয়ে ওড়া পাখি। কিংবা লাঠিতে ভর দেওয়া বৃদ্ধের কাঁধের পেছন থেকে চেয়ে থাকা পাখি।
লোকে বলে কাক শুভ লক্ষণ নয়। কিন্তু জানি, কাক যেতে না-পারা মানুষের আত্মা।
সেও কি জানত, ছবির কাক আসলে সে নিজেই?
তারপর থেকে কাকের ডাক শুধু তার আঁকার ঘরের দিকেই বয়ে নিয়ে গেছি।
VI
আমি সমুদ্রকে জাগিয়েছিলাম
আমি সমুদ্রকে জাগিয়েছিলাম।
এক শরতে তার তুলি বড় বেশি অভ্যস্ত হয়ে উঠছিল। দূর সমুদ্র থেকে বড় ঢেউ তুলে আনলাম। তিন রাত, তিন দিন বিরামহীন বইলাম। ছাদ উড়ল, মাছ ধরার নৌকা ভাঙল, মানুষের উদ্বেগ হাওয়ায় মিশল।
চেয়েছিলাম সে ভয় পাক। মানুষের যে ভয় থাকা উচিত, তাকে আবার তা শেখাতে চেয়েছিলাম।
আঁকার ঘরের দরজা খুলে বেরোল। খড়ের বর্ষাতিও গায়ে নয়, শুধু একটি লাঠি হাতে। সমুদ্রের খাড়া পাড়ের ওপর দাঁড়াল। পায়ের নিচে ঢেউ পাহাড়ের মতো উঠল, ভাঙল।
ধাক্কা দিলাম। দেহ টলল, কিন্তু হাঁটু গাড়ল না। বরং লাঠিতে ভর দিয়ে টিকে রইল।
তখন কী দেখেছিল, জানি না। শুধু তার চোখ দূর সমুদ্রের শেষ প্রান্তে, আমার জন্মস্থানে ছিল। হয়তো সেই দিগন্ত কেউ সারা জীবন দেখেছে। হয়তো না-ফেরা মানুষের অপেক্ষায় থাকা লোকেরা দীর্ঘকাল সেখানে চোখ রেখেছে।
সমুদ্রের দিকে বড় বেশি দিন চেয়ে থাকা মানুষ কখনো পাথর হয়। অনেক আগে থেকেই জানতাম। সেই পাথরের পাশ দিয়ে গেলে প্রতিবার গলা নামাই।
সেদিনও তাই। তার চোখ ঝড়ের কেন্দ্রে নয়, ঝড়ের ওপারের অপেক্ষায় ছিল।
তারপর থেকে তার ছবির সমুদ্র আর শান্ত হয়নি। সবসময় তোলপাড়, সবসময় কালো, সবসময় জীবন্ত। আর সেই সমুদ্রকে পিঠ দিয়ে দাঁড়ানো একজন ছবিতে থাকতই। লাঠিতে ভর দেওয়া বৃদ্ধ। কিংবা পাথর হয়ে যাওয়া মানুষ।
ঝড় পেরিয়ে গেল।
আমি তাকে ভাঙতে পারিনি। তাকে সমুদ্র দিয়েছি।
VII
আমি তার রং কেড়ে নিয়েছিলাম
আমি তার রং কেড়ে নিয়েছিলাম।
আমি যে সমুদ্র দিয়েছিলাম, তার নিজের রং দিয়ে সে তা আঁকতে পারত না। টোকিও থেকে আনা রংগুলি—কোবাল্ট নীল, ক্যাডমিয়াম লাল, গভীর আল্ট্রামারিন। একে একে আমি সেগুলি শুকিয়ে দিয়েছিলাম। আর্দ্রতায় জমাট বাঁধিয়েছিলাম, রোদে ফিকে করেছিলাম, নুনে ফাটিয়ে দিয়েছিলাম।
আমি চেয়েছিলাম তার হাত খালি হোক। স্থলভাগের রং, টোকিওর রং, সিউলের রং, সব তাকে ছেড়ে যাক।
সে অনেকক্ষণ খালি ক্যানভাসের সামনে বসে ছিল। যেন জানে না কী আঁকতে হবে। অথবা যেন এই প্রথম জানে কী আঁকা উচিত নয়।
এক সকালে সে মাঠে গেল। আমি তার পিছু নিলাম। সে এক মুঠো শুকনো ঘাস হাতে তুলে অনেকক্ষণ দেখল। সে রং সবুজও নয়, হলুদও নয়, বাদামিও নয়। গোটা গ্রীষ্ম বেঁচে, শরৎ সহ্য করে, শীতের সামনে দাঁড়ানো রং। সময়ের গড়া রং, স্থানীয় পরিবেশ ধীরে ধীরে নিংড়ে দিয়েছে যে রং।
আঁকার ঘরে ফিরে সে সেই রং তৈরি করল। এক চেষ্টায় হল না। কয়েক দশবার মেশাল, রঙের ওপর রং চাপাল, মুছে ফেলল।
অবশেষে তার ক্যানভাসে শুকনো ঘাসের রং ফুটে উঠলে আমি বুঝলাম। আমি তার নিজের রং কেড়ে নিইনি। কেড়ে নিয়েছি সেই রং, যা তার ছেড়ে দেওয়াই উচিত ছিল।
এখন সে আমার রঙে আঁকে।
VIII
আমি তাকে তার নাম ভুলিয়ে দিয়েছিলাম
আমি তাকে তার নাম ভুলিয়ে দিয়েছিলাম।
সে যখন প্রথম এই দ্বীপে এল, তার অনেক নাম ছিল। টোকিওতে পাওয়া পুরস্কারের নাম। সিউলের শিল্পজগৎ তাকে যে নামে ডাকত। শিক্ষকের রেখে যাওয়া নাম। সহকর্মীদের মনে থাকা নাম। নামগুলি ভারী ছিল। সে তুলি তুললেই নামগুলি আগে ক্যানভাসে এসে বসত।
আমি একে একে সেগুলি উড়িয়ে দিলাম। প্রথমে টোকিওর নাম নিয়ে গেলাম। সে আর জাপানি ভাষায় স্বপ্ন না দেখা পর্যন্ত নামটি সমুদ্রে পুঁতে রাখলাম। তারপর সিউলের নাম নিয়ে গেলাম। চিঠি আসা বন্ধ হওয়া পর্যন্ত, প্রদর্শনীর খবর আর না আসা পর্যন্ত, তাকে দেখতে আসা পা বিরল হয়ে যাওয়া পর্যন্ত আমি অপেক্ষা করলাম।
সে ক্রমে হালকা হয়ে উঠল। কাঁধে চেপে থাকা জিনিসগুলি খসে পড়ল। কোমর যত নুয়ে এল, মনও তত নিচু হল।
একদিন সূর্যাস্তের সময় সে ছবির এক কোণে ছোট অক্ষরে স্বাক্ষর করল। জি(志), অর্থ সংকল্প—নিজের মধ্যে খোদাই করা নাম। বড় নয়, গর্বেরও নয়। শুধু এই চিহ্ন যে একজন মানুষ একটি সংকল্প নিয়ে একটি জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। সেটি নামও ছিল, শিরোনামও ছিল।
সেই নামটিই শুধু আমি নিয়ে যাইনি।
অপ্রয়োজনীয় সবকিছু হারানো মানুষই যে অবশেষে নিজের নাম পেতে পারে, সেদিন একজন মানুষ তা প্রমাণ করল।
তার নতুন নামের ওপর দিয়ে আমি একবার আলতো করে বয়ে গেলাম।
IX
আমি তার নীরবতা শুনেছিলাম
আমি তার নীরবতা শুনেছিলাম।
যেদিন সে সেই নাম খোদাই করল, সেদিন থেকে তার কথা কমে এল। আমি ভেবেছিলাম তা দুঃখ। পৃথিবী তাকে ভুলে যাচ্ছে বলে একজন মানুষের নীরব মেনে নেওয়া।
কিন্তু তা নয়।
তার নীরবতা শূন্য ছিল না। তার মধ্যে সমুদ্রের শব্দ ছিল। ঘাস শুকিয়ে যাওয়ার শব্দ ছিল। টাট্টুর শ্বাস ছিল। কাকের ডানা ঝাপটানো ছিল। আর সব শব্দের নিচে ছিলাম আমি।
সে শুনছিল। কথা না বলে সে অবশেষে স্থানীয় পরিবেশের কথা শুনছিল।
একদিন স্থলভাগ থেকে আসা এক অতিথি জিজ্ঞেস করল, তার নিঃসঙ্গ লাগে কি না। সে শুধু মৃদু হাসল। উত্তর না দিয়ে জানালাটি আর একটু খুলে দিল।
সেই ফাঁক দিয়ে ঢুকে আমি অতিথির পোশাকের প্রান্ত একবার দুলিয়ে বেরিয়ে এলাম।
সেই ছিল তার উত্তর।
X
আমি তাকে রেখে চলে যাচ্ছি
এখন আমি তাকে রেখে চলে যাচ্ছি।
আজ সকালে তার আঁকার ঘরের জানালা শেষবারের মতো কাঁপিয়ে দিলাম। সে ফিরে তাকাল না। তুলি ধরা হাত থামল না।
সে প্রথম এই দ্বীপে এলে আমি তাকে পরীক্ষা করেছিলাম। ইজেল ফেলে দিয়েছিলাম, রং কেড়ে নিয়েছিলাম, নাম নিয়ে গিয়েছিলাম, সমুদ্রকে উত্তাল করেছিলাম। চেয়েছিলাম সে হাঁটু গেড়ে পড়ুক, চলে যাক, অথবা ভেঙে পড়ুক।
সে হাঁটু গেড়েছিল, কিন্তু যায়নি। ভেঙেছিল, কিন্তু আবার উঠে দাঁড়িয়েছিল।
আর কখন যেন সে আমার মতো হয়ে উঠল। কোমর নুয়ে পড়লেও টলত না। কথা কমলেও গভীর হল। তার কালো রেখা আমার বুননের মতো, তার শুকনো ঘাসের রং আমার সময়ের মতো হয়ে উঠল।
এখন তার আমার পরীক্ষার প্রয়োজন নেই। সে নিজেই স্থানীয় পরিবেশ হয়ে উঠেছে।
আমি আর তাকে কাঁপাব না। শুধু তার ছবির পাশে থাকব। যেদিন সে তুলি নামিয়ে রাখবে, তার শেষ শ্বাস গ্রহণ করে আমি মাঠে, সমুদ্রে, শুকনো ঘাসের মধ্যে ফিরিয়ে দেব।
আমি আগে এসেছি, কিন্তু সে আমার চেয়েও দীর্ঘকাল থাকবে।
তার ক্যানভাসের মধ্যে
আমি চিরকাল বয়ে যাব।