The Byun Shi-Ji AtlasWORKS · FŪDO · LANGUAGES

Byun Shi-Ji/যে চিত্রকর বাতাস গিলে ফেলেছিলেন/চিত্র

Byun Shi-Ji · 邊時志

যে চিত্রকর বাতাস গিলে ফেলেছিলেন

চিত্র

3 / 3 · বাংলা


লেখা: Byun Joung Hoon

I

আমাকে আঁকা শেষ হওয়ার পর আমার শুরু

আমাকে আঁকা শেষ হওয়ার পর আমার শুরু।
চিত্রকর শেষ তুলি নামিয়ে রাখার মুহূর্তে এক পা পিছিয়ে গেলেন, আর আমি এক পা এগিয়ে এলাম। তিনি হয়তো ভেবেছিলেন আমাকে তিনি তৈরি করেছেন। কিন্তু আমি জানি। তিনি শুধু আমার শরীর তৈরি করেছেন।

আমার ভেতরের হাওয়া তিনি তৈরি করেননি। স্থানীয় পরিবেশ অনেক আগে থেকে তা পাঠিয়েছে। আমার ভেতরের শুকনো ঘাসের রং তিনি মেশাননি। এই পরিবেশের সময় তাঁর হাত ধার করে এখানে থেকে গেছে।

ক্যানভাসে প্রথম চোখ মেললাম। আঁকার ঘরের নিচু ছাদ দেখলাম। জানালার বাইরে সমুদ্রের শব্দ শুনলাম। আর একজন মানুষের নুয়ে থাকা পিঠ দেখলাম।

তিনি অনেকক্ষণ আমাকে দেখলেন। আমিও অনেকক্ষণ তাঁকে দেখলাম। দুজনেই জানতাম, এবার থেকে আমাদের সময় আলাদা হবে। তিনি বুড়ো হবেন। আর তিনি চলে যাওয়ার পরও আমি থাকব।

চুপচাপ শ্বাস নিতে শুরু করলাম।

↑ চিত্র

II

আমাকে দেয়ালে ঝোলানো হল

আমাকে দেয়ালে ঝোলানো হল।
আঁকার ঘর ছেড়ে প্রথম অন্য জায়গায় ঢোকার দিন অচেনা আলোয় রাখা হল আমাকে। সাদা দেয়াল। চারদিকে কাঠের ফ্রেম, পাশে ছোট নামফলক। লোকে একে ‘প্রদর্শনী’ বলল।

জানতাম না এই আলো কী, এই দৃষ্টিগুলি কী।

মানুষ আমার সামনে দিয়ে গেল। কেউ দ্রুত, কেউ ধীরে। কেউ মাথা কাত করল, কেউ চোখ কুঁচকাল। কেউ অনেকক্ষণ থেমে আমাকে দেখল।

তখন বুঝলাম। আমি দেয়ালে ঝুলছিলাম না। এক একজন মানুষের চোখের মধ্যে হেঁটে ঢুকছিলাম। কোনো চোখ আমাকে ছুঁয়ে চলে গেল। কোনো চোখ একটু থাকতে দিল। কিন্তু একটি চোখ, অনেকক্ষণ থেমে থাকা সেই চোখের মধ্যে আমাকে দ্বিতীয়বার আঁকা হল।

চিত্রকর এঁকেছিলেন আমার শরীর। দর্শকের চোখ এঁকেছিল আমার আত্মা।

অবশেষে বুঝলাম। ছবি আঁকার ঘরে শেষ হয় না। কারও চোখ যেখানে থামে, সেখানে ছবি আবার শুরু হয়।

দেয়ালে ঝুলে আমি ধীরে বেড়ে উঠছিলাম।

↑ চিত্র

III

আমি টাট্টু

আমি টাট্টু।
মাঠে চিত্রকরের দেখা সেই প্রাণী আমার ভেতরে আছে। বাঁকা পিঠ, নুইয়ে পড়া ঘাড়, এলোমেলো কেশর। কিন্তু আমি সেই প্রাণীর প্রতিকৃতি নই। আমি সেই প্রাণীকে দেখা একজন মানুষের মন।

চিত্রকর আমার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের কাঁধ ছুঁয়েছিলেন। আমিও জানি। তিনি প্রাণীটিকে দেখেননি, তার মধ্যে নিজের প্রতিফলন দেখেছিলেন। সরিয়ে দেওয়া মানুষ। ছোট হয়ে যাওয়া মানুষ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চলে যায়নি।

এখন মানুষ আমার সামনে দাঁড়ায়। কেউ বলে, “এ তো শুধু ঘোড়া।” কেউ বলে, “কী নিঃসঙ্গ প্রাণী।”

কিন্তু কখনো, খুব কখনো, একজন মানুষ সামনে দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ নড়ে না। তার কাঁধ একটু নুয়ে আছে। চোখ ঘোলা হয়ে এসেছে। জানি, সেও নিজেকে দেখছে।

আমার ভেতরের টাট্টু এখন আর একটি নয়। চিত্রকরের একটি, আমাকে দেখা প্রতিটি মানুষের আরও একটি করে টাট্টু। এভাবে চুপচাপ আমি এক পাল হয়ে উঠছি।

সরিয়ে দেওয়া মানুষদের ভাই হয়ে আমি এখানে আছি।

↑ চিত্র

IV

আমি কাককে বুকে রাখি

আমি কাককে বুকে রাখি।
চিত্রকরের আঁকা একটি কালো পাখি। রোগা, এক চোখ ঘোলা, এক পা নিয়ে চলে যেতে না-পারা পাখি।

লোকে কখনো আমার সামনে থমকে যায়। “কাকই কেন?” কেউ চোখ ফিরিয়ে নেয়, কেউ দীর্ঘশ্বাস ফেলে। তাদের দোষ দিই না। অনেক দিন ধরে এভাবেই শিখেছে। কাক অশুভ, মা নুন ছিটিয়েছিলেন।

কিন্তু আমার ভেতরের কাক অশুভ নয়। সে শুধু সহ্য করেছে। দল থেকে সরিয়ে দেওয়া, একটি চোখ আর পা হারিয়েও শেষ পর্যন্ত নিজের জায়গা না-ছাড়া প্রাণী। এই মাটির সব হাওয়া গায়ে নিয়েছে, সব বৃষ্টি সহ্য করেছে, তবু কালো পালক হারায়নি।

কখনো একজন মানুষ সামনে অনেকক্ষণ থাকে। পোশাক পরিপাটি, কিন্তু কোথাও যেন একটু ক্ষীণ হয়ে গেছে মানুষটি। চোখ পরিষ্কার, কিন্তু কোথাও একটু ঘোলা।

সে আমার ভেতরের কাককে দেখে। কাকও তাকে দেখে। সেই মুহূর্তে দুটি কাক একে অন্যকে চিনে ফেলে। তাদের মাঝে চুপচাপ বসে থাকি। বাধা দিই না। শুধু জায়গা ছেড়ে দিই।

শুভও নয়, অশুভও নয়। শুধু সহ্য করেছে। সেই পাখিকেই বুকে রাখি।

↑ চিত্র

V

আমি ঝড় ধারণ করি

আমি ঝড় ধারণ করি।
খাড়া পাহাড়ের ওপর থেকে চিত্রকরের দেখা সমুদ্র এখনও আমার ভেতরে তোলপাড় করে। কালো ঢেউ পাহাড়ের মতো উঠে ভেঙে পড়ে। ছবির ভেতরে অবিরাম হাওয়া বয়। ফ্রেমে বাঁধা আছি, কিন্তু আমার ভেতরের সমুদ্র কখনো শান্ত হয়নি।

লোকে প্রায়ই সামনে এসে জিজ্ঞেস করে, “এত রুক্ষ কেন?” “শান্ত সমুদ্র আঁকেননি কেন?”

উত্তর দিই না। শুধু ভেতরের সমুদ্র দুলিয়ে যাই।

কিন্তু কখনো একজন মানুষ এসে অনেকক্ষণ নড়ে না। কাঁধ একটু কাঁপে। শ্বাস গভীর হয়। জানি, সেও ভেতরে ঝড় নিয়ে বাঁচে।

পৃথিবীতে এমন মানুষ আছে। বাইরে শান্ত, ভেতরে সবসময় ঢেউ ওঠে। অনেক রাত ঘুম আসে না, বিনা কারণে টলে যায়। এমন মানুষ সামনে দাঁড়ালে অবশেষে স্বস্তি পায়। “আমার ভেতরের এই ঝড় শুধু আমার নয়।” “কেউ আগেই তা এঁকেছে।” “তাহলে আমি পাগল নই।”

সেই স্বস্তি নিয়ে সে ফিরে গেলে আমার ভেতরের ঝড় এক মুহূর্ত শ্বাস থামিয়ে তার পিছু নিয়ে একসঙ্গে হাঁটে।

সেই ঝড় বিপর্যয় নয়। সেই ঝড় কিছু আত্মার বেঁচে থাকার ধরন।

তাদের জন্য আজও তোলপাড় করি।

↑ চিত্র

VI

আমি শুকনো ঘাসের রং

আমি শুকনো ঘাসের রং।
চিত্রকর হাতের তালুতে রেখে অনেকক্ষণ দেখেছিলেন একটি ঘাসপাতা। তার রং দিয়েই আমার সবটুকু তৈরি।

সোনালি বলো না। সোনালি বড় জমকালো। বাদামি বলো না। বাদামি বড় অন্ধকার। আমার অন্য নাম নেই। শুধু শুকনো ঘাসের রং।

গ্রীষ্মের সবুজ পুরোটা বেঁচে পার হওয়ার সময় আমার মধ্যে আছে। শরতের রোদে ধীরে শুকোনোর সময় আমার মধ্যে আছে। হাওয়ায় ঘষা খাওয়া, নুনে জারিত হওয়া, বৃষ্টিতে ভেজা, আবার শুকোনোর সময় আমার মধ্যে আছে।

রং কম বলে ছবি দরিদ্র নয়। রং একঘেয়ে বলে সময় একঘেয়ে নয়।

আমার একটি রঙে অনেক দিন ঘুরে ফিরে আসা একজন মানুষের পথ আছে। আমার একটি রঙে স্থানীয় পরিবেশের ধীরে নিংড়ে দেওয়া সময় আছে।

কখনো একজন মানুষ সামনে দাঁড়ায়। আমাকে দেখতে দেখতে নিজের তালুর দিকে তাকায়। সেই তালুতেও অদৃশ্য একটি ঘাসপাতা রাখা আছে।

জানি। সেও এখন নিজের সময়ের রং দেখছে।

↑ চিত্র

VII

আমার যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই আছে

আমার যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই আছে।
কালি আর শুকনো ঘাসের রং। এই আমার সব। চিত্রকর গভীর ড্রয়ারে রেখে দিয়েছিলেন যে জমকালো রঞ্জক, কোবাল্ট, ক্যাডমিয়াম, আল্ট্রামারিন, সিঁদুর লাল, আমার মধ্যে নেই।
কখনো লোকে সামনে দাঁড়িয়ে বলে, “এত কম রং কেন?” “আরও সমৃদ্ধ করে আঁকা যেত।”

উত্তর দিই না। শুধু চুপচাপ আমার দুটি রং মেলে ধরি।
কালি এই পরিবেশের রাত। শুকনো ঘাসের রং এখানকার সময়। রাত আর সময়। একটি জগতের জন্য এই দুটিই যথেষ্ট।

বরং রং বেশি থাকলে আরও দরিদ্র হতাম। রং বেশি থাকলে কোনো রং নিজের জায়গা পেত না। রং বেশি থাকলে স্থানীয় পরিবেশের কণ্ঠ চাপা পড়ত।

কখনো একজন মানুষ সামনে বলে, “এই সরলতা অদ্ভুত গভীর।”

তখন মৃদু হাসি। সে চিনেছে। ছেড়ে দেওয়াই প্রাচুর্য। অল্পই গভীরতা। দুটি রঙের মধ্যে দশ হাজার রং আছে।

আমার ক্যানভাস দরিদ্র নয়। আমার ক্যানভাসে ঠিক যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই আছে।

সেই আমার ঐশ্বর্য।

↑ চিত্র

VIII

আমি একটি অক্ষর বুকে রাখি

আমি একটি অক্ষর বুকে রাখি।
আমার এক কোণের ছোট জায়গায় কালিতে লেখা একটি অক্ষর আছে। জি(志), অর্থ সংকল্প। বড় নয়। জমকালো নয়। সহজে চোখে পড়ে না এমন জায়গায় চুপচাপ বসে আছে।

লোকে কখনো অক্ষরটি না দেখেই চলে যায়। ছবির হাওয়া, সমুদ্র, টাট্টু দেখতে দেখতে ছোট অক্ষরটিতে চোখ পৌঁছায় না।

দোষ দিই না। অক্ষরটি গর্ব করার জন্য নেই। শুধু একজন মানুষ একটি জায়গায় দাঁড়িয়েছিল, তার চিহ্ন।

কিন্তু কখনো একজন মানুষ সামনে অনেকক্ষণ থেকে ছোট অক্ষরটি আবিষ্কার করে। কোমর ঝুঁকিয়ে কাছে এসে দেখে। “এ ছদ্মনাম, না আসল নাম?” “মানে কী?” “স্বাক্ষর, না শিরোনাম?”

উত্তর দিতে পারি না। শুধু অক্ষরের ভেতরের সময় চুপচাপ মেলে ধরি।

একটিমাত্র পরিচয়ে তা বাঁধা যায় না। একজন মানুষের নিজের দেওয়া নাম, আবার সারাজীবন আঁকা সব ছবির শিরোনাম। স্বাক্ষরের মতো ছোট হয়ে বসেও সংকল্প দিয়ে গোটা ছবি ধরে রাখে। নাম আর শিরোনাম, দুটি স্থান একটি অক্ষরে মিলে যায়।
টোকিওর দেওয়া নাম নয়। সিউলের দেওয়া নাম নয়। শিক্ষক, বংশ বা পৃথিবীর দেওয়া নাম নয়।

হাত খালি করে, স্থানীয় পরিবেশের সামনে হাঁটু গেড়ে, শুকনো ঘাসের রং গ্রহণ করার জায়গায় একজন মানুষ নিজের ভেতর থেকে তুলে এনেছেন একটি অক্ষর।

কিন্তু অক্ষরটি শুধু তাঁর ছিল না। বহু আগে থেকে এই মাটিতে তাদের গল্প বয়ে এসেছে, যারা নিজেকে মুছে শুধু সংকল্প রেখে গেছে। নামের চেয়েও দীর্ঘকাল থেকে যায় যা, শরীরের চেয়েও দীর্ঘকাল থাকে যা। একজন মানুষ চলে যাওয়ার পরও কোনো কোনো সংকল্প হাওয়ার মতো থাকে।

মাটিতে পুরোনো গল্প থেকে যাওয়ার মতো একজন চিত্রকর ছবি রেখে গেছেন। তাই 志 অক্ষরটি একজনের নাম, আবার নিজেকে নিচু করে শুধু সংকল্প রেখে যেতে চাওয়া মানুষদের নীরব স্বাক্ষরও।

অক্ষরটি ছোট, কিন্তু আমার ভারকেন্দ্র। না থাকলে গোটা ছবি ভেসে বেড়াত। আছে বলেই এক জায়গায় শিকড় গাড়তে পারি। সংকল্প বুকে রাখলেই নিজের নাম পাওয়া যায়। নাম থাকলেই একটি ছবি হয়ে থাকা যায়।

সেই একটি অক্ষরের ওপর আজও চুপচাপ শ্বাস নিই।

↑ চিত্র

IX

আমি নীরবতায় কথা বলি

আমি নীরবতায় কথা বলি।
আমার ছবিতে লেখা নেই। ব্যাখ্যা নেই। এমনকি শিরোনামও প্রায়ই খালি থাকে।

চিত্রকর আমাকে কথা দেননি। কারণ নীরবতায় আমাকে এঁকেছেন। এখন আমিও নীরব হয়ে মানুষের সামনে দাঁড়াই।

লোকে সামনে দাঁড়িয়ে কখনো মুখ খোলে। “কী আঁকা হয়েছে?” “মানে কী?” “কী বার্তা আছে?”

উত্তর দিই না। উত্তর নেই বলে নয়। উত্তর কথায় প্রকাশ করা যায় না বলে।

আমার ভেতরের হাওয়া কথা নয়। ভেতরের সমুদ্র বাক্য নয়। ভেতরের শুকনো ঘাস কোনো ভাষায় অনুবাদ হয় না।

কিন্তু কখনো একজন মানুষ সামনে মুখ বন্ধ করে। ব্যাখ্যা চায় না। অর্থ জিজ্ঞেস করে না। শুধু অনেকক্ষণ দেখে।

সেই নীরবতায় অবশেষে তার সঙ্গে কথা বলি। কথা দিয়ে নয়। হাওয়ার বুনন দিয়ে, সমুদ্রের শ্বাস দিয়ে, ঘাসপাতার সময় দিয়ে।

সে বোঝে। কী বুঝেছে তা হয়তো নিজেও ব্যাখ্যা করতে পারবে না। শুধু ফিরে যাওয়ার সময় কাঁধ একটু হালকা থাকে। চোখে কোনো এক আলোর রেখা থেকে যায়। তাতেই যথেষ্ট।

কথা যেখানে পৌঁছায় না, ছবি সেখানে থাকে। ব্যাখ্যা যেখানে থামে, স্থানীয় পরিবেশ সেখানে বয়। আমি নীরবতায় কথা বলি। আর যে নীরবতা শুনতে জানে, কেবল তার কাছেই অবশেষে শোনা যাই।

↑ চিত্র

X

আমি থেকে যাই

আমি থেকে যাই।
চিত্রকর বুড়ো হলেন। হাত কাঁপতে শুরু করল, তুলি ক্রমে ধীর হল। একদিন শেষ তুলি নামিয়ে রাখলেন। আর তুললেন না। হাওয়া তাঁর শেষ শ্বাস নিয়ে মাঠে ফিরিয়ে দিল। সব দেখেছি।

দুঃখ করিনি। তিনি আমাকে শিখিয়েছিলেন। নির্বাসন আশীর্বাদ। শেষ আরেক শুরু। একজন মানুষ চলে গেলেও স্থানীয় পরিবেশ তাঁর ছবিতে বয়ে চলে।

এখন একা। কিন্তু নিঃসঙ্গ নই। দেয়ালে ঝুলে প্রতিদিন জেগে থাকি। মানুষ আসে, মানুষ যায়। এক যুগ চলে যায়, আরেক যুগ আসে। শিল্পসংগ্রহশালার আলো বদলায়, ফ্রেমের কাঠ পুরোনো হয়।

কিন্তু ভেতরের হাওয়া থামে না। ভেতরের সমুদ্র শান্ত হয় না। ভেতরের শুকনো ঘাস রং হারায় না। টাট্টু এখনও মাঠে দাঁড়িয়ে, কাক এখনও এক চোখে পৃথিবী দেখে। লাঠিতে ভর দেওয়া বৃদ্ধ এখনও দিগন্তের ওপারে তাকিয়ে আছেন।

একদিন একটি শিশু সামনে দাঁড়াবে। আমাকে যিনি এঁকেছেন তাঁর নাম জানবে না। কিন্তু আমাকে দেখা সেই শিশুর চোখে আবার একবার আঁকা হব। সেই আমার অনন্তকাল।

চিত্রকর আমাকে তৈরি করেছেন। দর্শকের চোখ আবার তৈরি করে। আর অদৃশ্য স্থানীয় পরিবেশ অবিরাম নতুন করে তৈরি করে।

আমাকে আঁকা শেষ হওয়ার পর আমার শুরু, আর আমি শেষ হব না। চুপচাপ এখানে আছি। আজও, আগামীকালও, তারপরও। শুকনো ঘাসের রঙে, কালো হাওয়ার বুননে, একজন মানুষ চল্লিশ বছরের ফেরার পথ পেরিয়ে যে জায়গা আবিষ্কার করেছিলেন, সেখানে আমি থেকে যাই।

↑ চিত্র

৩৪টি ভাষা